খুচরা পর্যায়ে অগ্রিম কর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে: আইসিএবি

খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর অগ্রিম কর আরোপের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পেশাদার নিরীক্ষকদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি সংকুচিত করতে পারে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে আইসিএবি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি এন এ কে মবিন।
মূল্যস্ফীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা
প্রস্তাবিত বাজেটে খুচরা বিক্রেতাদের জন্য হাজারে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ বা প্রতি হাজার টাকায় দুই টাকা হারে অগ্রিম কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এন এ কে মবিন বলেন, করের হার তুলনামূলকভাবে কম মনে হলেও এর আওতা সারা দেশে বিস্তৃত। ফলে সামগ্রিকভাবে এটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তার মতে, খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত করের চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর স্থানান্তর করতে পারেন, যা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
ব্যাংকঋণ নিয়ে উদ্বেগ
আইসিএবি মনে করে, বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে, তাহলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অর্থায়নের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন।
সংগঠনটির সভাপতি বলেন, ব্যাংকের ঋণ বিতরণের একটি বড় অংশ সরকারি খাতে চলে গেলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাবে। অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতিকে সাধারণত ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তার ভাষ্য, এর ফলে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাজেটকে বাস্তবমুখী বলছে আইসিএবি
তবে সামগ্রিকভাবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী’ বলে অভিহিত করেছে আইসিএবি।
সংগঠনটির মতে, তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
কিছু উদ্যোগের প্রশংসা
আইসিএবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের পূর্বের কয়েকটি সুপারিশ এবারের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।
বিশেষ করে ন্যূনতম কর বিধান বাতিল, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করহার নির্ধারণ এবং নিবন্ধিত স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য টার্নওভার কর সুবিধাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।
ডিজিটাল করব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব
প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর জোর দিয়েছে আইসিএবি।
এন এ কে মবিন বলেন, কর আদায় বাড়াতে এবং করদাতাদের হয়রানি কমাতে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল করব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, রাজস্ব ব্যয় এবং অন্যান্য সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শক্তিশালী নিরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তার মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আহরণ যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।





