খুলনার গোল্লামাড়ী কিলখানায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন দোকানে যাচ্ছে মাংস

খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
খুলনা নগরীর গোল্লামাড়ী কিলখানায় অসুস্থ ও মৃত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি এবং নগরীর বিভিন্ন মাংসের দোকানে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ গরুর মাংস বাজারজাত করে আসছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, অসুস্থ গরু কিলখানায় আনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সেগুলো জব্দ করা হলেও পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এসব গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় মুসলমানপাড়া এলাকার বাসিন্দা দুই ভাই আরিফ ও অনিকের নামও উঠে এসেছে। তারা কালু কসাইয়ের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের নিজ বাসার সামনে অসুস্থ গরু জবাই করে পরে সেই মাংস গোল্লামাড়ী কিলখানা নিয়ে এসে বিক্রি করা হয়। এর আগেও এই কালু কসাই ও তাদের ছেলের নামে অভিযোগ উঠলে টাকা দিয়ে সব মিটিয়ে ফেলে বলে জানায় স্হানীয়রা।
আজ ২৯ আগস্ট সকালে আরিফ ও অনিক নামের গরুর মাংস ব্যবসায়ী দুই ভাইয়ের গরু প্রশাসনের লোকজন নিয়ে যাওয়ার পর অর্থের বিনিময়ে পুনরায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গরুটি যে ইজিবাইকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই চালকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে গরু ব্যবসায়ী আরিফের বক্তব্য জানতে চাইলেও তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কিলখানা একজন ব্যবসায়ী মিলন শেখ অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন অসুস্থ গরু আটক করার পরও অর্থের বিনিময়ে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আবার একইভাবে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। তাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর অভিযান ছাড়া এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—খুলনাবাসী আসলে কী খাচ্ছেন? বাজারে বিক্রি হওয়া মাংসগুলো কি সত্যিই সুস্থ গরুর, নাকি অসুস্থ, পচা কিংবা মৃত গরুর মাংস?
অসুস্থ বা মৃত গরুর মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গরু জবাই ও মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।






