বাড়িতে অ’বৈ’ধ মিনি পাম্পে ৩ হাজার লিটার ডিজেল! ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

পাবনায় ঘরের ভেতর তৈরী করা অবৈধ মিনি পাম্প থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিন হাজার লিটার ডিজেল। জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি নতুনপাড়া এলাকায় এই অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। সাধারণ একটি বসতবাড়ির অন্দরে যে এত বড় একটি জ্বালানি তেলের অবৈধ ভাণ্ডার গড়ে উঠতে পারে, তা স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং র্যাব সদস্যরা যৌথভাবে এই দুঃসাহসিক অভিযানটি পরিচালনা করেন।
তদন্তে জানা গেছে, আলাউদ্দিন আলী নামের এক অসাধু ব্যবসায়ী তার নিজ বাসভবনের গোপন প্রকোষ্ঠে জ্বালানি তেলের এক বিশাল মজুত গড়ে তুলেছিলেন। বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় না থাকলেও ঘরের ভেতরে ড্রাম ভরে রাখা হয়েছিলো হাজার হাজার লিটার ডিজেল।
এই অসাধু ব্যবসায়ী মূলত ধুলাউড়ি বাজারের একজন তেল বিক্রেতা। কিন্তু প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় তিনি তার বাড়ির ভেতরেই একটি মিনি পেট্রোল পাম্পের মতো সেটআপ তৈরি করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে গোপনে তেল বিক্রি করে আসছিলেন।
অভিযান চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন, অত্যন্ত সুকৌশলে ডিজেলগুলো মজুত করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তল্লাশিতে সেখান থেকে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা সাধারণ মানুষকে আটক করে রাখে, আলাউদ্দিন আলী তাদেরই একজন। এই ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে চড়া দামে ডিজেল বিক্রি করে আসছিলেন, যা সরাসরি ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘন।
আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং পাম্পটি সিলগালা করা হয়। এই বিপুল অংকের অর্থদণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে এবং তাকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। উদ্ধারকৃত তিন হাজার লিটার ডিজেল নিয়েও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জব্দ করা তেল একশো টাকা লিটার দরে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ন্যায্যমূল্যে ডিজেল বিক্রির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি দেখা দেয়। মুহুর্তের মধ্যেই সেখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে যায়। তেল কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকরা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। বিশেষ করে স্থানীয় কৃষকদের জন্য এই অভিযান ছিল একটি বড় আশীর্বাদ, কারণ সেচ মৌসুমে চড়া দামে ডিজেল কিনতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠছিলো। সাধারণ মানুষ জানান, যারা এভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানটি অন্যান্য অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কড়া বার্তা। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারের কারসাজি রুখতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সাঁথিয়া উপজেলার মতো দেশের অন্যান্য প্রান্তেও যাতে এ ধরনের অবৈধ মিনি পাম্প বা গোপন মজুতখানা গড়ে উঠতে না পারে, সেদিকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত তেলের অবশিষ্টাংশ এবং জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনার পর ধুলাউড়ি নতুনপাড়া এবং সংলগ্ন বাজার এলাকায় থমথমে কিন্তু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও স্থিতিশীল এবং সাধারণের নাগালে রাখতে সাহায্য করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের অভিযান সামনের দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।






