লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা: হামলা, দখল ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগে উত্তপ্ত জনপদ

মোঃ সজিব আলী, নাটোর জেলা প্রতিনিধি :
উত্তরবঙ্গের শান্তির জনপদ হিসেবে পরিচিত নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা এখন রাজনৈতিক সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এর ঘনিষ্ঠদের ছত্রছায়ায় এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছে। সেই বলয়ের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা, দখল, চাঁদাবাজি ও আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই লালপুর ও বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা। অভিযোগ রয়েছে, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাপ্পু এবং বাগাতিপাড়া বিএনপির সাবেক নেতা মোশারফ হোসেনের অনুসারীরা এলাকায় ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করা হলেই হামলা ও মামলার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন করায় তাদের টার্গেট করে নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিমন্ত্রী পুতুলের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্তত তিন হাজার নেতাকর্মী পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পুনর্বাসিতদের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভাষ্য, যারা একসময় আত্মগোপনে ছিলেন, তারা এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং বিএনপির একটি প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
এছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলন, হাটের খাজনা আদায় এবং দখল বাণিজ্য নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কোটি টাকার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতারা। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকেও তার ঘনিষ্ঠরা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ার চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সহিংসতা বন্ধ হোক, ফিরুক শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশ।






