খামেনির জানাজা ও দাফনের নতুন সূচি ঘোষণা ইরানের

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিক সূচি ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নতুন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। একাধিক ধাপের অনুষ্ঠান শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা রাখা হবে। ৬ জুলাই রাজধানীতে আনুষ্ঠানিক শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কোমে পৃথক স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মাশহাদে ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে খামেনিকে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন। পরদিন তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথমদিকে মার্চ মাসে রাষ্ট্রীয় জানাজার পরিকল্পনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে তা কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ইরানি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাগম হতে পারে।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আলী খামেনি। তার নেতৃত্বে ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণে ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি খুব কমই প্রকাশ্যে এসেছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনায় তার সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।





